Breaking News
Home > ব্যক্তিগত > তিনি আমার চাচী, কিন্তু আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মত সম্পর্ক, ইসলামের দৃষ্টিতে আমি এখন কি করবো?

তিনি আমার চাচী, কিন্তু আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মত সম্পর্ক, ইসলামের দৃষ্টিতে আমি এখন কি করবো?

আমার বয়স ২৩। একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ি শেষ সেমিস্টারে। এবার মূল কাহিনীতে আসি। আমি যখন ফার্স্ট সেমিস্টারে পড়ি তখন একটা মেয়ের সাথে রিলেশন হয়। তখন আমাদের দুজনারই বয়স ১৯ বছর। ও অন্য একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ত। ওর সাথে পরিচয় আমার একটা বন্ধুর মাধ্যমে। ওর ক্লাসমেট ছিল। মেয়েটি মফস্বলের মেয়ে। ঢাকাতে হোস্টেলে থাকে। অনেক সুন্দরী, সবাই হুর পরী বলত।

আমার সাথে রিলেশনের ৩ মাস। তখন আমরা শারীরিক সম্পর্ক করি। এছাড়া এর কিছুদিন পরে ওর সাথে আমি ৪ দিন কক্সবাজার ছিলাম। ১ বছর রিলেশনে আমরা অনেক বার শারীরিক সম্পর্ক করেছি। এরপর রিলেশনটা ভেঙে যায় নানান কারণে।

কিন্তু ওর সাথে বিয়ে ঠিক হচ্ছে আমার ছোট চাচার। উনি ক্যানাডাতে থাকে। উনার বয়স ৩৭। ঘটনাক্রমে চাচা মেয়েটিকে দেখে বিয়ে করার জন্য পাগল। চাচা অনেক বড়লোক, আর আমার প্রেমিকাও উনাকে বিয়ে করতে চায়। আমার এখন কী করা উচিৎ?

সে আমার চাচী হবে কিন্তু আমারা হাসবেন্ড ওয়াইফের মত শারীরিক সম্পর্ক করেছি। এটা মেনে নিতে পারছি না। এখন আমি কী করবো?

প্রভা আমীনের উত্তর :
যে মানুষের গুণা দুনিয়াতে গোপন রাখবে আল্লাহ কিয়ামতের সময় তার গুণা গোপন রাখবেন

মহান আল্লাহ্‌ বলেন –
“ তোমরা সৎকর্ম প্রকাশ্যে করলে অথবা গোপনে করলে অথবা দোষ ক্ষমা করলে আল্লাহও দোষ মোচনকারী, শক্তিমান”
(আন-নিসা : ১৪৯)।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন –
“মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, কিন্তু যে মাফ করে দেয় এবং আপোষে নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকটই রয়েছে। তিনি যালিমদের পছন্দ করেন না। তবে অত্যাচারিত হওয়ার পর যারা প্রতিবিধান করে, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে, যারা মানুষের উপর যুল্‌ম করে এবং পৃথিবীকে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহাচরণ করে বেড়ায়। এদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। অবশ্য যে ধৈর্য ধারণ করে এবং মাফ করে দেয়, এতো হবে দৃঢ়সংকল্পের কাজ। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন অভিভাবক নেই। যালিমরা (কিয়ামতের দিন) যখন শাস্তি দেখবে, তখন আপনি তাদের বলতে শুনবেন প্রত্যাবর্তনের কোন পথ আছে কি?”
(সূরা শূরা (৪২) : ৪০-৪৪)

আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
” মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুল্‌ম করবে না এবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।”
(হাদিস- বুখারী-২৪৪২)

সাফওয়ান ইবনু মুহরিব আল–মাযিনী (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনু ‘উমর (রাঃ) –এর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর মু’মিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে কি বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুন পাপের কথা কি তুমি জান? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! এভাবে তিনি তার কাছ হতে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, “আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব”। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
(হাদিস- বুখারী-২৪৪১)

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
”তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। (অর্থাৎ যালিম ভাইকে যুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাযলুম ভাইকে যালিমের হাত হতে রক্ষা করবে)।”
(হাদিস- বুখারী-২৪৪৩)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
”তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। তিনি (আনাস) বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! মাযলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু যালিমকে কি করে সাহায্য করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (অর্থাৎ তাকে যুলুম করতে দিবে না)।”
(হাদিস- বুখারী-২৪৪৪)

আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
” এক মু’মিন আর এক মু’মিনের জন্য ইমারত তুল্য, যার এক অংশ আর এক অংশকে সুদৃঢ় করে। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।”

Check Also

mami

আমি আর আমার মামী শুয়ে আছি হঠাৎ দেখি বাবা এসে মামীকে…

লাইফস্টাইল ডেস্ক, প্রাইমনিউজ.কম.বিডি ঢাকা : ” আমি কথাগুলো ঠিক কোথা থেকে শুরু করবো বুঝতে পারছিনা। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *