সুস্বাদু বাটার চিকেন এবং গার্লিক নান এর রেসিপি

রুটি দিয়ে খান মুরগির মজাদার পদ। বাটার চিকেন এবং গার্লিক নান এর কথা শুনলে সবার নিশ্চই খেতে মন চাইবে। রেসিপি দিয়েছেন ফারহানা রহমান।

বাটার চিকেন

এই রেসিপির দুটি ভাগ। প্রথমে মুরগির মাংস দিয়ে টিক্কা করে নিতে হবে। পরে তা গ্রেইভি অর্থাৎ ঝোলের সঙ্গে মেশাতে হবে।

মুরগির টিক্কা করার জন্য উপকরণ: ২ কাপ হাড় ছাড়া মুরগির মাংসের ছোট ছোট টুকরা। ২ চা-চামচ বেসন। ২ টেবিল-চামচ টকদই। ১ টেবিল-চামচ রসুনবাটা। ১ টেবিল-চামচ আদাবাটা। ১টি কাঁচামরিচ-বাটা। ১ চা-চামচ গুঁড়ামরিচ। আধা চা-চামচ গরম মসলাগুঁড়া। আধা চা-চামচ ধনেগুঁড়া। আধা চা-চামচ জিরাগুঁড়া। একটু জাফরান (কমলা রং)। লবণ স্বাদ মতো। আধা চা-চামচ ভিনিগার। ২ টেবিল-চামচ গলানো মাখন।

টিক্কা তৈরির পদ্ধতি: দই এবং বেসন একসঙ্গে মেশান। দানা দানা যেন না থাকে। এবার মাংস আর মাখন বাদে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। লবণ যেন বেশি না হয়। মাংসের টুকরাগুলো দিয়ে ভালো মতো মাখিয়ে দুইঘণ্টা রেখে দিন। এরপর বেইকিংট্রেতে মাখন মাখিয়ে মাংসগুলো কাঠিতে গেঁথে নিন। ট্রের উপরে দিয়ে ছড়িয়ে দিন।

প্রি হিটেড ইলেক্ট্রিক ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বিইক করুন। অথবা মাংসগুলো পোড়া পোড়া না হওয়া পর্যন্ত বেইক করুন।

amitumi_butter-naan-grlic-chicken

আর চুলায় করতে চাইলে, তাওয়াতে মাখন দিয়ে ভেজে নিতে পারেন। বেইক কিংবা ভাজা হলে নামিয়ে একপাশে রেখে দিন।

গ্রেইভির জন্য উপকরণ: ২ টেবিল-চামচ মাখন। ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ হেভি ক্রিম। ১টি টমেটোর পেস্ট (গরম পানিতে একটু সিদ্ধ করে উপরের খোসাটা তুলে ফেলে দিন। তারপর ভর্তা করে নিন)। ১টি ছোট পেঁয়াজকুচি। ৪টি সাদা এলাচ। ১ টুকরা দারুচিনি। ৪টি লবঙ্গ। ১ টেবিল-চামচ লাল মরিচগুঁড়া। ২টি কাঁচামরিচ। ১ টেবিল-চামচ আদাবাটা। আধা চা-চামচ গরম মসলাগুঁড়া। লবণ স্বাদ মতো। ১ চা-চামচ চিনি। একটু জাফরান রং।

গ্রেইভি তৈরির পদ্ধতি: প্যানে মাখন গরম করে আস্ত গরম মসলাগুলো ছেড়ে কয়েক সেকেন্ড ভেজে নিন। এরপর পেঁয়াজকুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন। আদাবাটা ও কাঁচামরিচ কেটে দিন। এরপর টমেটো পেস্ট এবং গরম মসলাগুঁড়া, মরিচগুঁড়া ও লবণ দিয়ে একটু ভেজে ক্রিম দিন। চার থেকে পাঁচ মিনিট কষিয়ে আধা কাপ পানি সঙ্গে চিনি এবং রং দিন।

ভালো মতো নেড়ে মুরগির টিক্কাগুলো দিয়ে কয়েক মিনিট অল্প আঁচে দমে রাখুন। গ্রেইভি ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন। তবে খুব ঘন করবেন না। কারণ এটি পরে ঝোল টেনে কমিয়ে নেয়।

আর লবণ দেওয়ার সময় সাবধান থাকবেন। অতিরিক্ত লবণ স্বাদ নষ্ট করে দিতে পারে। ঝাল পছন্দ মতো বাড়াতে বা কমাতে পারেন। যখনি পরিবেশন করবেন ভালো মতো গরম করে পরিবেশন করুন।

গার্লিক নান

নানরুটি বানানোর আগে কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। এর মধ্যে ইস্টকে ‘অ্যাকটিভ’ করা খুব জরুরি। না হলে নান ফুলবে না। এই নান চুলায় তৈরি করা যায়।

উপকরণ: দেড় কাপ ময়দা। আধা টেবিল-চামচ ইস্ট। ১টি ডিম (কাঁটাচামচ দিয়ে ফেটিয়ে নিন)। দেড় চা-চামচ চিনি। আধা চা-চামচ লবণ। ২ টেবিল-চামচ তেল। ৩ টেবিল-চামচ গুঁড়াদুধ। আধা কাপ কুসুম গরম পানি। ১ চা-চামচ রসুনবাটা অথবা কুচি করা রসুন। পরিমাণ মতো ঘি অথবা মাখন।

পদ্ধতি: প্রথমেই একটি বড় পাত্রে পানি হালকা গরম করে চিনি মেশান। খেয়াল রাখবেন পানির তাপমাত্রা যেন খুব হালকা গরম থাকে। বেশি গরম হলে ইস্ট ফুলবে না। পানি নামে মাত্র গরম হতে হবে। এবার এতে ইস্ট গুলিয়ে দিন। বাটি চেপে ঢেকে দিয়ে পাঁচ মিনিট গরম জায়গায় রেখে দিন।

এরপর এতে ময়দা, গুঁড়াদুধ, ডিম, রসুনবাটা দিয়ে ভালো মতো মাখিয়ে খামির বানান। প্রয়োজনে আরও পানি দিন। খামির যত নরম হবে নান ততই নরম হবে। এবার লবণ মেশান।

শেষে তেল দিয়ে খামির অনেকক্ষণ মথে হাত দিয়ে বল বানিয়ে নিন। বড় বাটিতে খামির রেখে বাটির মুখ চেপে ঢেকে দিন। এই বাটি কোনো গরম জায়গায় দুই ঘণ্টা রেখে দিন। ওভেনের ভেতর অথবা চুলার পাশে রাখতে পারেন।

দুই ঘণ্টা পর খামির ফুলে দ্বিগুণ হবে। হাতে তেল মাখিয়ে খামির চেপে স্বাভাবিক আকারে আনুন। খামির চার ভাগ করে একটা ভাগ দিয়ে হাত দিয়ে টেনে টেনে লম্বা মোটা রুটি বানান। রুটি বেশ মোটা করে বানাতে হবে।

রুটির উপরে রসুনকুচি ছিটিয়ে আলগা হাতে চেপে দিন। এভাবে বাকি রুটি গুলোও বানিয়ে আলাদা আলাদা পাত্রে রেখে ঢেকে পাঁচ মিনিট রেখে দিন।

এবার রুটি খুব গরম তাওয়াতে ভাজতে দিন। তাওয়া একদম আগুন গরম হতে হবে। না হলে ফুলবে না। যখন রুটির উপর দিয়ে ছোটবড় বুদবুদ দেখা যাবে তখন ওই তাওয়ার উপরেই ছোট গ্রিল সেট করে রুটির উল্টা পাশ সেঁকে নিন। তারমানে রুটির উপরের পাশটা যেন তাওয়াতে না লাগে।

হয়ে গেলে নান এর উপর ঘি বা মাখন ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

টিপস

– অনেকেই ভাবে যে ইস্ট বেশি দিলেই নান ফুলবে। এটি ভুল ধারনা। ইস্ট বেশি দিলে নান পচা দুর্গন্ধযুক্ত হবে।

– অতিরিক্ত গরম পানি বা দুধ ইস্ট কে মেরে ফেলে। ফলে নান ফুলে না। আবার খুব ঠাণ্ডা পানিও ইস্ট অ্যাক্টিভ করে না। তাই দুধ বা পানি হালকা কুসুম গরম হতে হবে। চিনি ইস্ট অ্যাক্টিভ করে এবং লবণ ইস্টকে মেরে ফেলে। তাই লবণ সব শেষে মেশানো ভালো।

– যত নরম খামির তত নরম নানরুটি।

– যে তাওয়াতে নানরুটি সেঁকা হবে সেটা অবশ্যই ভালো মতো গরম করে নিন। একেবারে আগুন গরম। নইলে নান ফুলবে না। দেখতেও ভালো হবে না।